সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১

‘দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে পদ্মা সেতুর কাজ দেওয়া হবেনা – সেতু সচিব

পদ্মা সেতুর সম্ভাব্য তদারককারীদের তালিকায় থাকা কানাডীয় একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুর্নীতিগ্রস্ত কোনো প্রতিষ্ঠানকে এ কাজ দেওয়া হবে না।যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে প্রমাণিত কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ সরকার কাজ দেবে না।”পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নকে কেন্দ্র করে এসএনসি-লাভালিন গ্র”প নামের এক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সম্ভাব্য ‘দুর্নীতি’ কানাডা তদন্ত করছে বলে রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়।পদ্মা সেতু নির্মাণে ১২০ কোটি ডলার ঋণদাতা বিশ্বব্যাংক শুক্রবার বলেছে, তদন্তের অংশ হিসেবে রয়াল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে।সচিব বলেন, কানাডীয় পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তে দোষ প্রমাণ হলে তারা (বিশ্বব্যাংক ও কানাডা) ব্যবস্থা নেবে।তবে দুর্নীতি তদন্তের এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে সরকারকে কিছু এখনো জানানো হয়নি বলে জানান তিনি।প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সচিব বলেন, সংবাদের শিরোনামে পদ্মা সেতুর নাম উল্লেখ থাকলেও এসএনসি-লাভালিন কর্তৃপক্ষ বা কানাডিয়ান পুলিশ পদ্মা সেতুর নাম উল্লেখ করেনি।পদ্মা সেতুর কনট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট নিয়োগের জন্য যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে তার মধ্যে লাভালিন একটি। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম বিশ্বব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করবে বিশ্বব্যাংক।বিশ্বব্যাংকের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে কানাডীয় কর্তৃপক্ষ।তিনি জানান, এ প্রকল্পে অর্থায়ন অনুমোদন করলেও চলমান তদন্তের কারণে অর্থ ছাড় করছে না বিশ্বব্যাংক।পদ্মা সেতু প্রকল্পের কোনো ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়নি জানিয়ে সচিব বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ অন্য কোনো অর্থায়নকারী সংস্থার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত অর্থ পাওয়া যায়নি। কোনো প্রতিষ্ঠানকে কোনো কাজ দেওয়ার কোনো নথি যোগাযোগমন্ত্রীর কাছে এখনো উপস্থাপন হয়নি। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতেও যায়নি কোনো প্রস্তাব।“এর আগেই কাজ পাইয়ে দেওয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ (মন্ত্রীর বিরুদ্ধে) একেবারেই অমূলক”, বলেন মোশাররফ।তিনি বলেন, “সংবাদপত্রে যোগাযোগমন্ত্রীকে কথিত দুর্নীতির সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটিকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা মন্ত্রী বা তদুর্ধের কারো নেই। ওই কমিটিতে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে একজন বিদেশি বিশেষজ্ঞকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার সঙ্গে যোগাযোগমন্ত্রীর কোনো সাক্ষাৎও হয়নি।”পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মশিউর রহমান সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন জানিয়ে সচিব বলেন, “তিনি (মশিউর) গত ২৮-৩০ জুন বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর সফর করেন, এ সফরে তিনি ইনট্রিগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্টসহ বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টদের সাথে সভা করেন।“ওই সময় বিশ্বব্যাংকের পক্ষ হতে পদ্মা সেতুতে কোনো প্রকারের দুর্নীতির আলামত উত্থাপন করা হয়নি। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টরও সরকারের কোনো মহলে দুর্নীতির কোনো বিষয় উপস্থাপন করেননি।”তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্যানেল অব এক্সপার্ট এর চেয়ারম্যান ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর থাকার কথা থাকলেও তিনি ছিলেন না।এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জামিলুর রেজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, একটি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে থাকায় তিনি থাকতে পারেননি।সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন সেতু বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল ওদুদ, পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।২৯০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিতব্য পদ্মা সেতুর জন্য ৪০ বছর মেয়াদে ১২০ কোটি ডলার ঋণ দিতে বাংলাদেশের সঙ্গে গত এপ্রিলে চুক্তি হয় বিশ্বব্যাংকের।দেশের দীর্ঘতম এ সেতু নির্মাণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৬১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ৪০ কোটি ডলার এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ১৪ কোটি ডলার দিচ্ছে।বাকি ২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেবে বাংলাদেশ সরকার। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পদ্মা সেতুতে ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।এ সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১০ কিলোমিটার। দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে দেশের মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপনকারী এ সেতুর কাজ ২০১৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ