সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১

উইকিলিকসের তথ্য: ছাত্রনেতারা ব্যস্ত টাকা কামানোর ধান্দায়

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্রদের ব্যবহার করছে। আর ছাত্রসংগঠনের নেতারা অনৈতিক চর্চা ও টাকা কামানোর কাজে ব্যস্ত। তিন দশক ধরে তারা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এসব করে আসছেন। এসব কারণে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষ-দখল এবং মারামারির মতো ঘটনা ঘটছে। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো এক তারবার্তায় ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে এসব মন্তব্য উঠে এসেছে। ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ. মরিয়ার্টি ২০১০ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি ‘ইনক্রিজেস স্টুডেন্ট ভায়োলেন্স রেইজেস অ্যালার্মস’ শিরোনামে এই বার্তাটি ওয়াশিংটনে পাঠান। প্রায় দেড় লাখ নতুন কেবলের সঙ্গে এ বার্তাটিও গত ৩০শে আগস্ট প্রকাশ করেছে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস। ওই বার্তায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সহিংসতায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি মন্তব্য করেন, ২০১০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশে যেভাবে ছাত্র সংঘর্ষের জের ধরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার মতোই কোন পরিস্থিতি হতে পারে।
ওই বার্তায় বলা হয়, টাকা, ক্ষমতা আর প্রভাব-প্রতিপত্তির প্রতিযোগিতা ছাত্র সংগঠনগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। এখন নাগরিকদের অনেকের পক্ষ থেকে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেয়ার দাবি উঠেছে। বার্তায় বলা হয়, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর পরই বেশির ভাগ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের দখল নেয় ছাত্রলীগ। ওই বার্তায় বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগের ভর্তি বাণিজ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। ছাত্রলীগ সাধারণভাবে ভর্তির নিয়ম উপেক্ষা করে টাকার বিনিময়ে ছাত্র ভর্তি করছে। এ কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। এ ছাড়া কোন্দলের কারণে দুই বছরে অন্তত ১১টি হত্যাকাণ্ডের জন্য ছাত্রলীগ দায়ী। এ ছাড়াও প্রতিপক্ষের ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ